User Tag List

Results 1 to 8 of 8

Thread: বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিং

  1. #1
    Publisher
    • anik_lc's Gadgets
      • Motherboard:
      • MSI B250M Bazooka
      • CPU:
      • Intel Core i7-7700 Kaby Lake 3.6-4.20GHz 8MG Cache 7th Gen
      • RAM:
      • 2x Corsair Vengeance 8GB DDR4 2400 BUS
      • Hard Drive:
      • Toshiba DT01ACA200 2TB SATA + 1TB Western Digital Blue
      • Graphics Card:
      • Sapphire Nitro + AMD RX 480 8GB GDDR5 OC
      • Display:
      • Samsung 21.5 inch Curved LED
      • Sound Card:
      • Built In
      • Speakers/HPs:
      • Logitech H110 Headphone
      • Keyboard:
      • Perfect CS-556 USB Keyboard
      • Mouse:
      • Delux DLM-137BU Optical USB Mouse
      • Controller:
      • N/A
      • Power Supply:
      • Thermaltake PS-TR2 600W 80Plus Bronze Power Supply
      • UPS:
      • Power Guard 1200 VA
      • Operating System:
      • Windows 10 Pro
      • Comment:
      • Very Satisfied
      • ISP:
      • ICC
      • Download Speed:
      • 300kbps
      • Upload Speed:
      • 400kbps
    anik_lc's Avatar
    Join Date
    Apr 2009
    Location
    Dhaka
    Posts
    18,440

    Default বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিং

    শুধু আশরাফুল একা নন
    ফিক্সিং জগতে মাহমুদ, রফিক, মাসুদও



    কেঁচো খুঁড়তে সাপ—এই প্রবাদটার ইংরেজি ভাষ্য জানা থাকলে বিপিএল তদন্তে আসা আইসিসির দুর্নীতি দমন কমিশনের (আকসু) প্রতিনিধিদের নিশ্চয়ই তা মনে পড়েছে। মোহাম্মদ আশরাফুল যে এত বড় ‘বোমা’ ফাটাবেন, সেটি বোধ হয় তাঁদেরও ধারণার অতীত ছিল। এসেছিলেন বিপিএলে ফিক্সিং তদন্ত করতে। কিন্তু তাঁদের কাছে দেওয়া মোহাম্মদ আশরাফুলের স্বীকারোক্তি বিপিএলের সীমানা ছাড়িয়ে আলো ফেলেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্ধকার এক জগতে। যেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার মোহাম্মদ আশরাফুলের উপস্থিতি তো আছেই, সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের সাবেক দুই অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ ও খালেদ মাসুদ এবং সাবেক বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিকের নামও।
    সূত্র জানিয়েছে, আকসু প্রতিনিধিরা খোঁজখবর নিয়ে মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে এসেছেন বুঝতে পেরে বিপিএলে ম্যাচ পাতানো ও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথা জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনই স্বীকার করে ফেলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। দ্বিতীয় দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও তিনবার স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার কথা তিনি স্বীকার করেন। সেটির সূত্র ধরেই উঠে আসে বাংলাদেশের ওই তিন সাবেক ক্রিকেটারের নাম। আকসু প্রতিনিধিদের আশরাফুল বলেছেন, এই তিন ক্রিকেটারই তাঁকে অন্ধকার ওই জগতের সঙ্গে প্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আশরাফুলের ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্র জানিয়েছে, প্রথম দিনেই বিপিএলে ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আসার পর আশরাফুল বুঝতে পারেন, শাস্তি তাঁকে পেতেই হবে। সেটির মাত্রা যাতে কম হয়, সেটি ভেবেই তিনি পরদিন সবকিছু খুলে বলার সিদ্ধান্ত নেন।
    বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া আশরাফুলের জবানবন্দির টুকরাগুলো এক সুতায় গাঁথলে সেটি প্রায় রহস্যোপন্যাসের রূপ নেয়—
    ২০০৪ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নিজেদের শততম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ হারিয়েছিল ভারতকে। পুরো দেশকে উৎসবে মাতিয়ে তোলা ওই দিনটিতেই আশরাফুলের গায়ে লাগে কলঙ্কের প্রথম ছিটা। ‘স্পট ফিক্সার’ হিসেবে আশরাফুলের অভিষেক এই ম্যাচেই। ম্যাচের আগের দিন টিম হোটেলেই জাভেদ নামে ভারতীয় এক বাজিকরের সঙ্গে আশরাফুলকে পরিচয় করিয়ে দেন খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদ ও মোহাম্মদ রফিক। সেখানেই জানানো হয় করণীয়—প্রথম ১৫ ওভারে কমপক্ষে ৬০ রান করতে হবে। সেটি বাংলাদেশ করেও ফেলে, যাতে এক চার ও দুই ছয়ে আশরাফুলের ৪১ বলে ২৮ রানের বড় ভূমিকা ছিল। এ জন্য আশরাফুল পান সাড়ে চার লাখ টাকা।
    খালেদ মাসুদ প্রসঙ্গ এরপর আর আসেনি। তবে খালেদ মাহমুদ ও মোহাম্মদ রফিক এসেছেন বারবার। ২০০৯ সালে খালেদ মাহমুদ বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচ নির্বাচিত হন। সে বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে ফেরার পর মাহমুদ সুনীল ভাটিয়া নামে এক ভারতীয় বাজিকরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন আশরাফুলকে। মাহমুদের বাসায় এই পরিচয় পর্বে মোহাম্মদ রফিকও উপস্থিত ছিলেন। সুনীল ভাটিয়া নামটি পাঠকের পরিচিত লাগতে পারে। কদিন আগে শ্রীশান্ত-কাণ্ডে ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এই সুনীল। সুনীলের চাওয়া ছিল ‘খুব সামান্য’। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে লাঞ্চের পর নির্দিষ্ট তিন ওভারে ৬ রান করতে হবে। সেটি প্রথম ইনিংসে না দ্বিতীয় ইনিংসে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দুই ইনিংসেই লাঞ্চের আগে আউট হয়ে যাওয়ায় আশরাফুল ‘কাজ’টা করতে সক্ষম হননি।
    টাকা অবশ্য অগ্রিমই দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কাজ হয়নি বলে সেই সাত লাখ টাকা ফেরত চেয়ে আশরাফুলকে অনেক চাপ দিয়েছেন সুনীল ভাটিয়া। কখনো সরাসরি ফোন করে, কখনো বা মোহাম্মদ রফিকের মাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত গত বছর আশরাফুল ওই সাত লাখ টাকা মোহাম্মদ রফিককে ফেরত দেন। কিন্তু সেটি আরেকটি অপকর্ম করে পাওয়া অর্থ থেকে। ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্পট ফিক্সিং করে।
    জাভেদ ও সুনীলের পর এখানেই দৃশ্যপটে আবির্ভাব আশরাফুলের ক্যারিয়ারের তৃতীয় বুকির। ২০০৭ সালে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পরই গান্ধী নামে এই ভারতীয় বুকি আশরাফুলকে প্রস্তাব দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আশরাফুল তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বলেই দাবি করেছেন আকসুর প্রতিনিধিদের কাছে। তবে গান্ধীর সঙ্গে আবারও আশরাফুলের যোগাযোগ হয় শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এসএলপিএল) খেলার সূত্রে। ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকহিথে খেলতে যাওয়া আশরাফুলকে ফোন করে ২০১২ এসএলপিএলে রুহুনা রয়্যালসে খেলার প্রস্তাব দেয় গান্ধী। আশরাফুলও প্রস্তাবটা লুফে নেন। রয়্যালসের প্রথম ম্যাচে না খেললেও দ্বিতীয় ম্যাচের আগেই গান্ধী আশরাফুলকে ফোন করে জানান যে, পরদিন তিনি খেলছেন এবং তাতে ‘ছোট্ট’ একটা কাজ করার আছে। ৭-৮-৯—এই তিন ওভারে ১৪ রান করতে হবে। কিন্তু আশরাফুল ষষ্ঠ ওভারেই আউট হয়ে যান। তবে হয়তো ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তাঁকে প্রতিশ্রুত ১০ হাজার ডলার দেওয়া হয়।
    সেই ‘ভবিষ্যৎ’ কদিনের মধ্যেই চলে আসে। শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গান্ধীর ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ পান আশরাফুল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইনিংসের ৫ ও ৬ ওভার মিলিয়ে ১০ রানের কম করতে হবে, বিনিময়ে দেওয়া হবে ২৫ লাখ টাকা। ওই দুই ওভারে ৮ রান হওয়ায় শর্ত পূরণ হয়। তাতে অবশ্যই আশরাফুলের বড় ভূমিকা। পাওয়ার প্লের মধ্যে ওই দুই ওভারে ৭ বল খেলে তিনি করেন ৫ রান। পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে মুশফিকুরের আউট হয়ে যাওয়া এবং নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ দুটি ডট বল খেলায় কাজটা সহজ হয় তাঁর জন্য। ঢাকায় ফিরে আশরাফুলও ২৫ লাখ টাকা বুঝে পান। সেখান থেকেই সুনীল ভাটিয়ার সাত লাখ টাকা ফেরত দিয়ে আসেন রফিককে। তবে সুনীল সেই টাকা ফেরত না নিয়ে গত বিপিএলেও কাজ করার প্রস্তাব দিয়ে গেছেন।
    কদিন আগে দিল্লি পুলিশের সূত্র দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, সুনীল ভাটিয়া বাংলাদেশের এক নামকরা ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে বলে জানিয়েছেন। পরে পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে এটি উড়িয়ে দিলেও আকসুর কাছে আশরাফুলের স্বীকারোক্তি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে—সেই নামকরা ক্রিকেটারের নাম কি মোহাম্মদ রফিক?

    মাহমুদ, মাসুদ ও রফিকের অস্বীকার
    মোহাম্মদ আশরাফুলকে কোনো বুকির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন খালেদ মাসুদ, মোহাম্মদ রফিক ও খালেদ মাহমুদ। ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা।
    কাল রাতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মাসুদ বলেন, ‘আমরা আশরাফুলকে কোনো বুকির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিইনি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে নাই।’ রফিক বলেন, ‘এসব মিথ্যা কথা। আমি সহজ-সরল মানুষ, প্যাঁচঘোঁচ বুঝি না, জানিও না। যারা এসব বলছে, মিথ্যা বলছে।’ বুকি জাভেদ ও সুনীল ভাটিয়াকে চেনেন না বলেও দাবি করেন তিনি। একই দাবি মাহমুদেরও, ‘এটা সত্যি নয়। এ ছাড়া আর কী বলব?’
    মন্তব্য করেননি আশরাফুল: বুকিদের সঙ্গে সম্পর্ক ও স্পট ফিক্সিং নিয়ে মোহাম্মদ আশরাফুলের বক্তব্য জানতে চাইলে ‘আকসুর বিধিনিষেধ’ থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।


    স্পট ফিক্সিং কি?

    ম্যাচের কোনো একটি অংশ পাতানোকে বলা হয় স্পট ফিক্সিং। তা হতে পারে নির্দিষ্ট ওভারের নির্দিষ্ট কোনো বলে একটি নো বা ওয়াইড বল, এক ওভার বা নির্দিষ্ট কিছু ওভারে কত রান উঠবে, কোন বোলার কোন প্রান্ত থেকে বোলিং করবেন ইত্যাদি। খেলার বাইরের বিষয় নিয়েও স্পট ফিক্সিং হয়। যেমন কোনো ক্রিকেটার টুপি মাথায় দিয়ে নামবেন কি না, কোন আম্পায়ার কোন প্রান্তে দাঁড়াবেন। টি-টোয়েন্টির প্রসারে ভয়ংকরভাবে ছড়িয়ে পড়েছে স্পট ফিক্সিংও।


    আকসু কি?

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের অ্যান্টি করাপশন ও সিকিউরিটি ইউনিট। নব্বই দশকজুড়ে ম্যাচ পাতানো নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড়ের পর ২০০০ সালে এটি গঠন করা হয়।


    বুকি কি?

    এককথায় বললে, যাঁরা জুয়ার ব্যবসা করেন। বিশ্বের অনেক দেশেই জুয়া বা বাজি ধরা বৈধ। বুকিরা বাড়তি উপার্জনের জন্য অর্থের বিনিময়ে কোনো দল বা খেলোয়াড়কে নির্দিষ্ট কিছু করতে রাজি করান। তখনই এটি রূপ নেয় ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংয়ে।


    বিপিএল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও

    বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন উৎকণ্ঠাভরে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের (আকসু) প্রতিবেদনের অপেক্ষায়। কী থাকবে ওই প্রতিবেদনে? ২০১৩ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কি আসলেই ম্যাচ পাতানোর ঘটনা ঘটেছে? ভারতে আইপিএলের ম্যাচে শ্রীশান্ত ও আরও দুই ক্রিকেটারকে দিল্লি পুলিশ হাতেনাতে ধরে ফেলার পর প্রশ্নটা শুধু ম্যাচ পাতানোতে সীমাবদ্ধ নেই। যোগ হয়েছে আরেকটি প্রশ্ন—বিপিএলেও কি কোনো ক্রিকেটার জড়িত ছিলেন স্পট ফিক্সিংয়ে?
    তদন্ত প্রতিবেদন কবে পাওয়া যাবে, এ ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না। যদিও বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান গত মঙ্গলবার বলেছেন, তিন দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে সেটি পেয়ে যাওয়ার কথা। আরেকটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, জুনের মাঝামাঝির আগে পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
    শেষ পর্যন্ত যখনই তা পাওয়া যাক, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সেটি টালমাটাল করে দিতে বাধ্য। কারণ, আকসুর তদন্তে বিপিএল ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।
    বিপিএলে ফিক্সিংয়ের তদন্ত করতে আকসুর তিন সদস্য গত দুই মাসে একাধিকবার বাংলাদেশে এসে সন্দেহভাজন অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করে গেছেন। আইসিসির এক আইনজীবীকে সঙ্গে করে সর্বশেষ আসেন ১৯ মে। ঢাকা ছাড়েন ২৪ মে। তিনবারের সফরে আকসুর তদন্তকারীরা অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। যাঁদের মধ্যে আছেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের খেলোয়াড় মোহাম্মদ আশরাফুল, মোশাররফ হোসেন (রুবেল) ও মাহবুবুল আলম (রবিন) এবং চিটাগং কিংসের কোচ খালেদ মাহমুদ। এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী এবং বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহা ও সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকের জবানবন্দিও নেওয়া হয়। আইসিসির অনুরোধে র্যাবও এখানে সংশ্লিষ্ট ছিল। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন, ‘আইসিসির অনুরোধে এ ঘটনা তদন্তে র্যাব সহায়তা দিয়েছে।’
    ২৪ মে ঢাকা ছাড়ার আগে টানা তিন দিন মোহাম্মদ আশরাফুলকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের যে ম্যাচগুলো সন্দেহের তালিকায়, সেই তিনটি ম্যাচেই অধিনায়ক ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এর মধ্যে পরের দুটি ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা শ্রীলঙ্কা সফরে তাঁকে পাওয়ার আশায় বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ীই খেলেননি। গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে রহস্যজনকভাবে মাশরাফিকে ‘আনফিট’ ঘোষণা করে আশরাফুলকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়। সেই ম্যাচটিতে অ-টি-টোয়েন্টিসুলভ ব্যাটিং করে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস হেরে যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে এটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে প্রকাশিত ম্যাচ রিপোর্টেও গ্ল্যাডিয়েটরসের পরাজয়ের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। পরের দিন আরও খোঁজখবর নিয়ে ছাপা হয়েছিল আরেকটি প্রতিবেদন। যেটির শিরোনাম ছিল, ‘চিত্রনাট্যের ম্যাচ বলেই মাশরাফি বাদ!’
    মূলত এই ম্যাচটিই ছিল আকসুর আতশি কাচের নিচে। কিন্তু সেটি নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে এসেছে। নির্ভরযোগ্য বেশ কিছু সূত্র থেকে প্রথম আলো জানতে পেরেছে, ওই ম্যাচটি যে পাতানো ছিল, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে আকসু। মোহাম্মদ আশরাফুল নিজেই সেটি স্বীকার করে এসেছেন বলে এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে আকসু আশরাফুলকে কোনো মন্তব্য করতে নিষেধ করে যাওয়ায় তিনি সেই খবর সত্য না মিথ্যা, এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি। তবে ক্রিকেটাঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে।
    তবে নানা সূত্র থেকে খবর পেয়ে গত কয়েক দিন প্রথম আলোর অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আকসুর কাছে মোহাম্মদ আশরাফুল শুধু বিপিএলে ম্যাচ পাতানোতে জড়িত থাকার কথা স্বীকারই করেননি, সেটি যে তাঁর একার ‘কম্মো’ নয়, সেটিও সবিস্তারে জানিয়ে দিয়েছেন। সবকিছু যে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরী ও তাঁর ছেলে শিহাব চৌধুরীর নির্দেশনা অনুযায়ীই হয়েছে, এটা তো জানিয়েছেনই; তাঁর কথায় বেরিয়ে এসেছে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত আরও বেশ কজন খেলোয়াড়ের নামও। শুধু বাংলাদেশেরই নন, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের একাধিক শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়ও আছেন এর মধ্যে। নাম এসেছে অন্য দলের কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড়েরও। গতকাল সেলিম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এই অভিযোগ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। গত শুক্রবার প্রথম আলোকে তিনি বলেছেন, ‘ক্রিকেটে আমরা শিশু, মাত্র দুই বছর হলো এসেছি। এখনো ক্রিকেটের “সি”ও শিখিনি, এত বড় কাজ কীভাবে করব!’ তাঁর এই প্রতিক্রিয়া পরদিন প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছে।
    সেলিম চৌধুরী যা-ই বলুন না কেন, আশরাফুলের জবানবন্দিতে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। ক্রিকেটে ফিক্সিং অনেক দিনই শুধু ম্যাচ হারা-জেতায় সীমাবদ্ধ নেই। বুকিদের আগ্রহের বড় একটা জায়গা এখন স্পট ফিক্সিং। সালমান বাট-মোহাম্মদ আসিফ-মোহাম্মদ আমিরের ঘটনা যেটির সঙ্গে ক্রিকেট অনুসারীদের ভালোমতোই পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ দিয়েছে আইপিএলে শ্রীশান্তদের কাণ্ড। বিপিএলেও স্পট ফিক্সিংয়ের বেশ কটি ঘটনা আশরাফুল আকসুকে জানিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
    কেঁচো খুঁড়তে যে ‘সাপ’ বেরিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে, তা এসব নয়। সেই ‘সাপ’ এমনই বিষধর যে, বিপিএল কেলেঙ্কারিকে এর তুলনায় ‘শিশুতোষ’ বলে মনে হবে সবার কাছে। এই লাইনটা পড়ার আগে বড়সড় একটা ধাক্কা খাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে নেওয়া ভালো—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। যেটিতে তাঁর সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস জানাতে গিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় বড় কিছু নামও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। যাঁদের দুজন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক, অন্যজনও বাংলাদেশের ক্রিকেটের মানদণ্ডে কিংবদন্তিতুল্য। প্রথম দুজনের নাম খালেদ মাহমুদ ও খালেদ মাসুদ। অন্যজন মোহাম্মদ রফিক।
    বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন বড় একটা ভূমিকম্পের সামনেই দাঁড়িয়ে।

    বিপিএলে গ্ল্যাডিয়েটরস-লজ্জা

    ২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম আসর নিয়েও বিতর্কের শেষ ছিল না। এ-জাতীয় টুর্নামেন্টে যেটি বিতর্কের অপরিহার্য অনুষঙ্গ, যথারীতি সেই ফিক্সিংও ছিল এর মধ্যে। তবে ম্যাচ পাতানো বিতর্ক নিয়ে ঝড় ওঠে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে। ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস-চিটাগং কিংস ম্যাচটিই ছিল সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত। তবে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের (আকসু) সন্দেহের তালিকায় ছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের আরও দুটি ম্যাচ। ১১ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস ও পরদিনই বরিশাল বার্নার্সের বিপক্ষে সেই দুটি ম্যাচেও ফিক্সিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে আকসু।
    ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে চিটাগং কিংসের কাছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের পরাজয়টা যে পূর্বনির্ধারিত ছিল, সেটি ওই ম্যাচের দর্শকদের না বুঝে উপায় ছিল না। অভিনয়টা ছিল এমনই কাঁচা।
    শেষ মুহূর্তে মাশরাফিকে সরিয়ে আশরাফুলকে অধিনায়ক করা, ঢাকার ইনিংসে শুরুতেই ব্যাটসম্যানদের আউট হয়ে যাওয়ার ব্যগ্রতা, পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে মাত্র ১৫ রান, ইংলিশ ব্যাটসম্যান ড্যারেন স্টিভেনসের অদ্ভুতুড়ে রানআউট, ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগে আশরাফুলের স্বভাববিরুদ্ধ ৪৮ বলে ৩৩ সন্দেহের ডালপালা ছড়িয়ে দিয়েছিল তখনই। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আকসুর কাছে আশরাফুল স্বীকার করেছেন, গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরী এবং তাঁর বড় ছেলে শিহাব চৌধুরী ম্যাচের আগেই বলে দিয়েছিলেন, এই ম্যাচে হারতে হবে। শুধু ম্যাচ হারাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই ‘ফিক্সিং’। সঙ্গে স্পট ফিক্সিংয়ের দুটি ব্যাপারও ছিল। যার কোনোটিতেই অবশ্য ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
    প্রথম স্পট ফিক্সিংটা হয়েছিল ৫-৬-৭—এই তিন ওভার নিয়ে। যাতে ৩৫ বা এর বেশি রান দিতে হবে। এই তিন ওভার কাকে কাকে দিয়ে বোলিং করাতে হবে, সেটিও আশরাফুলকে বলে দেওয়া হয়—এক বিদেশিকে দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশের দুই আন্তর্জাতিক বোলার মাহবুবুল আলম (রবিন) ও মোশাররফ হোসেন (রুবেল)। ওই তিনজনের সঙ্গে সব ঠিক করা আছে বলেও আশরাফুলকে জানান ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক। কথা অনুযায়ী আশরাফুল এই তিনজনকে ওই সময়ই বোলিংয়ে আনেন। কিন্তু বোলারদের রান দিতে আপ্রাণ চেষ্টার পরও ওই তিন ওভারে চট্টগ্রামের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ২৮ রানের বেশি হয়নি।
    মোশাররফ ও মাহবুবুল অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কাল মুঠোফোনে মোশাররফ প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘জানি না কীভাবে এসব ছড়াচ্ছে। হতে পারে কেউ ষড়যন্ত্র করছে। আমাকে এ রকম কোনো প্রস্তাবই কেউ কখনো দেননি।’ মাহবুবুলের দাবি, ‘এ রকম কোনো কিছুই ঘটেনি। যা শুনেছেন ভুল শুনেছেন। আমি এ রকম কোনো অফার পাইনি। এ রকম কিছু করিওনি।’
    চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয় স্পট ফিক্সিংটা ছিল ১৬ থেকে ১৯—এই চার ওভারে ৬০ বা এর বেশি রান দিতে হবে। স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য নির্ধারিত ওভারগুলো একটা কাগজে লিখে আশরাফুলকে দিয়ে দিয়েছিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের ছেলে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই সর্বশেষবার ঢাকায় এসেছিলেন আকসু প্রতিনিধিরা। এই চার ওভারের প্রথম তিনটিতে মাত্র ১৩ রান ওঠার পর ১৯তম ওভারটি করতে আসেন আশরাফুল। সেই ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে একটি উইকেটও পান। আশরাফুল হয়তো বোলিংয়ে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছেন। কারণ, স্পট ফিক্সিং যে ব্যর্থ হতে যাচ্ছে, সেটি তো ওই ওভারের আগেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। এক ওভারে ৪৭ রান দেওয়া তো আর সম্ভব নয়!
    মজাটা হলো, যে মোশাররফ রুবেলের রান দেওয়ায় বড় ভূমিকা পালন করার কথা ছিল বলে অভিযোগ, ব্যাটসম্যানদের ‘ব্যর্থতায়’ উল্টো মাত্র ১৭ রান দিয়ে তিনি ২ উইকেট পেয়ে যান। এই ম্যাচে স্পট ফিক্সিংয়ের অংশটুকু চিত্রনাট্য অনুযায়ী না হলেও ম্যাচ হারতে সক্ষম হওয়ায় ঢাকায় ফেরার পর আশরাফুলকে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক ১০ লাখ টাকার একটি চেক দেন।
    আশরাফুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় খুলনার বিপক্ষে ম্যাচে শুধু স্পট ফিক্সিংই হয়েছিল। সেটি হলো ৪-৫-৬—এই তিন ওভারে ৩৯ রান করতে হবে। সেটি নিশ্চিত করার জন্য ওপেনার ও টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ছক্কা মারার জন্য বিশেষ পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলেন গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক। কিন্তু ওই তিন ওভারেই উইকেট পড়ায় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ১৩ রানের বেশি করতে পারেনি। ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে উল্টো ঢাকার হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে ঢাকা সেই ম্যাচ জেতে, তবে তাতে প্রতিপক্ষ খুলনা দলেরও ভূমিকা ছিল কি না, এ নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ এবং কিছু প্রমাণও পেয়েছে আকসু। এই ম্যাচে জেতার পরও ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের বিমর্ষ ভাব সাংবাদিকদের মধ্যেও তখন আলোচনার খোরাক হয়েছিল। ম্যাচ জেতার চেয়ে যে ৪-৫-৬ ওভারে ৩৯ রান দেওয়াটা তাঁদের অর্থাগমের জন্য বেশি জরুরি ছিল।
    পরদিনই অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি বরিশালের বিপক্ষে ম্যাচে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও তাঁর ছেলে প্রথমে আশরাফুলকে হারার কথা বললেও পরে ঠিক হয়, ঢাকা জেতার জন্যই খেলবে। তবে স্পট ফিক্সিং অনুষঙ্গ এখানেও ছিল: ৬-৭-৮—এই তিন ওভারে ৩৫ বা এর বেশি রান করতে হবে। এখানেও বোলাররা ‘ব্যর্থ’, ওই তিন ওভারে রান হয়েছে মাত্র ১৪। এই ম্যাচের আগে আবার ভারতীয় এক বুকির কাছ থেকে আশরাফুলের কাছে প্রস্তাব আসে, এই ম্যাচ হারাতে পারলে ৮০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। প্রথম আলোর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আকসুর কাছে আশরাফুল দাবি করেছেন, এই প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে সেই ম্যাচেই সাকিব আশরাফুলের দোষে রানআউট হন, আশরাফুল নিজে করেন ৩১ বলে ২০ এবং ঢাকা হেরে যায়।
    বরিশালের সঙ্গে ম্যাচে স্পট ফিক্সিং চিত্রনাট্য অনুযায়ী কাজ না করায় এবং ম্যাচ হেরে যাওয়ায় আশরাফুল অন্য কোনো বুকির হয়ে কাজ করছেন কি না, মালিকপক্ষের মনে এই সন্দেহ জাগে। যে কারণে ১৪ ফেব্রুয়ারি চিটাগং কিংসের বিপক্ষে পরের ম্যাচে মাশরাফি অধিনায়ক হয়ে ফেরার পর আশরাফুলকে ব্যাটিং অর্ডারে নামিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে ব্যাটিং করে ঢাকা ৬ উইকেটে ১৬৮ করে। আশরাফুলকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোই হয়নি।
    আকসুর কাছে বিপিএল-সংক্রান্ত আশরাফুলের স্বীকারোক্তিতে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরী ও তাঁর ছেলে শিহাব চৌধুরী ছাড়াও দলের ইংলিশ কোচ ইয়ান পন্ট, বাংলাদেশের দুই বোলার মোশাররফ হোসেন (রুবেল) ও মাহবুবুল আলমের (রবিন) নাম এসেছে। এসেছে দুই শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়ের নামও। পন্ট অবশ্য দুই দিন আগে ইংল্যান্ডের এক পত্রিকার কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
    ঘটনার শুরু অবশ্য এবারের বিপিএল শুরুর আগেই। আকসুকে আশরাফুল জানিয়েছেন, এ বছর বিপিএলের নিলামের আগে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক সেলিম চৌধুরীর কাছে ২০১২ বিপিএলের পাওনা চাইলে তিনি তাঁকে বনানীতে তাঁর অফিসে যেতে বলেন। সেখানে সেলিম চৌধুরী আশরাফুলকে বলেন, এবার বিপিএলে বেশ কয়েকটি ম্যাচে ইচ্ছা করে হারতে হবে। তাহলে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস দলের খেলোয়াড়দের গতবারের বকেয়াসহ এবারের চুক্তির সব টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে পারবে।
    ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের প্রধান নির্বাহী গওহর রাওয়াতও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে ঘোর সন্দেহ আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যেখানে বছরের পর বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী দিয়ে কাজ চালিয়ে যায়, সেখানে গত বিপিএলে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের প্রধান নির্বাহী নিয়োগ দেওয়াটা একটু বিস্ময় হয়েই এসেছিল। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবর ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাজিকরদের সঙ্গে মালিকের যোগসূত্র হিসেবে কাজ করার জন্যই গৌরব নামে বেশি পরিচিত রাওয়াতকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিকানার অংশীদারিও গওহর রাওয়াতকে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। রাওয়াত নিজেও বুকি কি না, এ নিয়েও সন্দেহ আছে। এই রাওয়াত আবার শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এসএলপিএল) দল রুহুনা রয়্যালসের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। যে দলে খেলে এসেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল।
    বিপিএলে ফিক্সিং নিয়ে আশরাফুলের স্বীকারোক্তিতে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের সংশ্লিষ্টতা মোটামুটি প্রমাণিত হয়ে গেছে। অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও যে ধোয়া তুলসী পাতা, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। এই সূত্র ধরে আকসুর তদন্ত আরও ডালপালা ছড়ালে এটি প্রমাণিত হতেও হয়তো সময় লাগবে না যে, বিপিএল যতটা ক্রিকেট, তার চেয়ে বেশি ‘জুয়ার আখড়া’।




    All sources Prothom-Alo.


    ------------------------------------


    OMG! What have Ashraful done!!


    I just can't believe Ash done so many spot fixing. RIP Ashraful.

    Like my Facebook page Gaming Newz for new gaming news updates.

    My Facebook Twitter YouTube Steam

  2. #2
    Member
    • Sybaris Caesar's Gadgets
      • Motherboard:
      • Intel DH61WW B3 Rev.
      • CPU:
      • Intel Core i5 2400 3.10 Ghz
      • RAM:
      • Kingston KVR1333D3N9/4G 4GB DDR3 1333 Mhz
      • Hard Drive:
      • Seagate Barracuda 7200.12 1TB 7200 RPM
      • Graphics Card:
      • Leadtek Winfast GTX 560 ti 1GB GDDR5 822/1644/4008
      • Sound Card:
      • Onboard
      • Keyboard:
      • Thermaltake Commander
      • Mouse:
      • Logitech G402
      • Controller:
      • Original Xbox 360 Wireless
      • Power Supply:
      • Cooler Master G550M
      • Optical Drive:
      • Samsung SH222 22x DVD Writer
      • UPS:
      • Orlando 800va(packet e lekha apollo)
      • Operating System:
      • Windows 8.1 Pro x64
      • Upload Speed:
      • ∞
    Sybaris Caesar's Avatar
    Join Date
    May 2012
    Location
    Nowy Warsaw
    Posts
    3,934

    Default

    Overwhelming. Why o why you damned yourselves shohoj sorol bangalis. I can somewhat vouch for Ashraful though. It isn't unknown he came from a poor background. But others ? :sad:
    My probable next build: Qisan MagicForce 68 (Outemu switch) / Teamwolf Zhuque+ 87 TKL (Outemu) / Monoprice Select series full size (Outemu/Gateron) / Drevo Gramr 84 TKL (Outemu) Logitech G102 Prodigy Deepcool Dukase V3 / Thermaltake Versa U21 Superlux HD 681 Creative Sound Blaster E1 LG 22MP68VQ SteelSeries QcK Generic executive chair others TBA

    djrock please don't bother me. You are in my ignore list so I don't have to see literal poop.

  3. #3
    Member
    • fahimspider's Gadgets
      • Motherboard:
      • MSI P67A GD65(B3)
      • CPU:
      • I5 2400 @ 3.4 GHZ Cooled by CM Hyper 412 Slim
      • RAM:
      • TWINMOS 8 GB 1600 BUS
      • Hard Drive:
      • TRANSCEND 128 GB SSD, 2 TB WD SATA III BLACK, 1 TB HITACHI
      • Graphics Card:
      • Saphire ATI HD 7950 Dual-X
      • Display:
      • HP 18.5 INCH LCD
      • Sound Card:
      • Built In
      • Speakers/HPs:
      • Microlab 2.1
      • Keyboard:
      • Tt E-sports Knucker
      • Mouse:
      • Tt Theron mouse
      • Controller:
      • Razer Nostromo
      • Power Supply:
      • THERMALTAKE SMART MODULAR 650 WATT
      • Optical Drive:
      • Asus DVD RW. HP DVD ROM
      • UPS:
      • Apollo 1200 VA
      • Operating System:
      • WINDOWS 7 64 BIT
      • Benchmark Scores:
      • 7.5 WEI
      • Comment:
      • ROCKING
      • ISP:
      • SmileBD
      • Download Speed:
      • 300-600kbps
      • Upload Speed:
      • 250-450kbps
    fahimspider's Avatar
    Join Date
    Aug 2012
    Location
    Dhaka
    Posts
    768

    Default

    Quote Originally Posted by Dunia_r_JAURA View Post
    Overwhelming. Why o why you damned yourselves shohoj sorol bangalis. I can somewhat vouch for Ashraful though. It isn't unknown he came from a poor background. But others ? :sad:
    A poor financial background does not give him any right to back stab his own country. He and others, if found guilty must be punished.

  4. #4
    Member
    • asif105878's Gadgets
      • Motherboard:
      • Intel X45
      • CPU:
      • Intel Core i5-450M Processor 2.40GHz with Turbo Boost Technology up to 2.66 GHz
      • RAM:
      • 4GB DDR3 800MHz
      • Hard Drive:
      • 500GB 7200rpm, 1+1.5+2 TB external
      • Graphics Card:
      • Intel GMA HD
      • Display:
      • ASUS VH238H, 14.0” diagonal High-Definition HP BrightView LED Display (1366 x 768)
      • Sound Card:
      • Integrated
      • Speakers/HPs:
      • Altec Lancing, A4Tech Hs-30
      • Keyboard:
      • CM Storm Trigger, Logitech, 101-key compatible with island-style full-size keyboard
      • Mouse:
      • Logitech M125
      • Controller:
      • DualShock 3, XBOX controller, Wii Remote and Nunchuck, Mad Catz X360 CoDBO PrecisionAIM Controller
      • Power Supply:
      • 65W
      • Optical Drive:
      • USB Devices:
      • Sony Walkman, Portable HDD, USB flash drive
      • UPS:
      • N/A
      • Operating System:
      • Win7 Home Premium x64
      • Benchmark Scores:
      • 4.5
      • Comment:
      • stuck with it atm :(
      • ISP:
      • Comocast
      • Download Speed:
      • 3125
      • Upload Speed:
      • 1500
      • Console:
      • 50
    asif105878's Avatar
    Join Date
    May 2010
    Location
    Somewhere in Michigan
    Posts
    839

    Default

    The BPL is a front for laundering money I think. And these 'leagues' are a way to make money for the franchise owners. Why else would they spend money behind it? These are more like WWE and IPL.
    Last edited by asif105878; March 14th, 2014 at 08:59.

    Anime-Planet.com - anime | manga | reviews

  5. #5
    Member
    • chosen1's Gadgets
      • Motherboard:
      • foxcon H55
      • CPU:
      • core i3 540 3.07
      • RAM:
      • Transcend 4 GB DDR3 1600 BUS( 2*2 GB)
      • Hard Drive:
      • HITACHI 1 TB
      • Graphics Card:
      • NVIDIA GeForce GT 440(apatoto),
      • Display:
      • Acer s273hl 27 inch
      • Sound Card:
      • Onboard
      • Speakers/HPs:
      • Creative Inspire M4500
      • Keyboard:
      • Generic
      • Mouse:
      • Generic
      • Controller:
      • ORIGINAL Xbox 360 wireless+Razer Onza Xbox360 Tournament Eddition+ 2X ps3 dualshock controller
      • Power Supply:
      • Generic
      • Optical Drive:
      • Samsung Truedirect DVD RW
      • USB Devices:
      • 16 GB Transcend Pendrive
      • Operating System:
      • Windows 8
      • Comment:
      • currently gaming in Xbox 360 , PS3, PS4,soon gonna update the pc though
      • ISP:
      • Local
      • Console:
      • 146
    chosen1's Avatar
    Join Date
    Nov 2011
    Location
    Dhaka
    Posts
    775

    Default

    Ashraful er national team e asha jawa bondho holo oboshesh e mone hochhe...long tym er jonno banned hobe sure

  6. #6

    Default

    Quote Originally Posted by chosen1 View Post
    Ashraful er national team e asha jawa bondho holo oboshesh e mone hochhe...long tym er jonno banned hobe sure
    At the time when he is in form. we r really unfortunate....

  7. #7
    Member
    • fahimspider's Gadgets
      • Motherboard:
      • MSI P67A GD65(B3)
      • CPU:
      • I5 2400 @ 3.4 GHZ Cooled by CM Hyper 412 Slim
      • RAM:
      • TWINMOS 8 GB 1600 BUS
      • Hard Drive:
      • TRANSCEND 128 GB SSD, 2 TB WD SATA III BLACK, 1 TB HITACHI
      • Graphics Card:
      • Saphire ATI HD 7950 Dual-X
      • Display:
      • HP 18.5 INCH LCD
      • Sound Card:
      • Built In
      • Speakers/HPs:
      • Microlab 2.1
      • Keyboard:
      • Tt E-sports Knucker
      • Mouse:
      • Tt Theron mouse
      • Controller:
      • Razer Nostromo
      • Power Supply:
      • THERMALTAKE SMART MODULAR 650 WATT
      • Optical Drive:
      • Asus DVD RW. HP DVD ROM
      • UPS:
      • Apollo 1200 VA
      • Operating System:
      • WINDOWS 7 64 BIT
      • Benchmark Scores:
      • 7.5 WEI
      • Comment:
      • ROCKING
      • ISP:
      • SmileBD
      • Download Speed:
      • 300-600kbps
      • Upload Speed:
      • 250-450kbps
    fahimspider's Avatar
    Join Date
    Aug 2012
    Location
    Dhaka
    Posts
    768

    Default

    Quote Originally Posted by G-addict View Post
    At the time when he is in form. we r really unfortunate....
    No we actually are fortunate to know about the truth. Or he might sell us again.

  8. #8

    Default

    I think most corrupted cricketer are all in India. ICC should investigate IPL match fixing.

Similar Threads

  1. Replies: 15
    Last Post: August 24th, 2011, 22:14

Tags for this Thread

Posting Permissions

  • You may not post new threads
  • You may not post replies
  • You may not post attachments
  • You may not edit your posts
  •  
Page generated in 0.43471 seconds with 14 queries.