User Tag List

Results 1 to 2 of 2

Thread: সক্রিয় রাজনীতিও ছাড়লেন :: সংসদ থেকে পদত্যা&

  1. #1
    Member
    • furiousTaher's Gadgets
      • Motherboard:
      • Asus z170p || Asus p8 P67m pro
      • CPU:
      • i7 6700k || i5 2400
      • RAM:
      • 2 x Ripjaws 8gb 3200C16D 16GVKB || (Transcend 4gb + Adata 4gb) 1333
      • Hard Drive:
      • Evo 850 250gb + Toshiba 2tb || WD 500gb blue
      • Graphics Card:
      • Zotac gtx 1060 amp || Sapphire r7 260x 1GB
      • Display:
      • Asus vx229h ||Samsung 21.5" S22A300B
      • Sound Card:
      • Xonar dgx
      • Speakers/HPs:
      • Microlab 223 || AltecLansing VS2621 + a4tech hs100
      • Mouse:
      • a4tech x7
      • Power Supply:
      • Adata HM 850w || Thermaltek 600 TR2 S
      • Optical Drive:
      • Asus dvd writer 24x max
      • USB Devices:
      • Phantom 240 red/black || Vatyn 664b (Tyrannosaurus)
      • UPS:
      • Power guard 1200va
      • Comment:
      • :D
    furiousTaher's Avatar
    Join Date
    Apr 2010
    Location
    Dhaka
    Posts
    8,151

    Default সক্রিয় রাজনীতিও ছাড়লেন :: সংসদ থেকে পদত্যা&

    http://www.prothom-alo.com/detail/da...24/news/252642
    ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ, ৩১ মে পদত্যাগ। এর প্রায় তিন বছর পর সংসদ সদস্যপদও ছাড়লেন তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে স্পিকারের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই সাংসদ। এর মধ্য দিয়ে রাজনীতি থেকেও দূরে সরে গেলেন তিনি।
    পদত্যাগপত্রে সোহেল তাজ লিখেছেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা ১৯৭, গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া)। আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৭(২) ধারা মোতাবেক আপনার নিকট আমার পদত্যাগপত্র পেশ করলাম।’ তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী এবং সংসদ সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহ্ফুজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তানজিম আহমদের পদত্যাগের বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন। তবে পদত্যাগপত্র তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। স্পিকার আবদুল হামিদ গতকাল ঢাকার বাইরে ছিলেন।
    জানা যায়, পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও আইন শাখার কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কয়েকজন সাংবাদিক আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, সোহেল তাজ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু আমি সংসদ সচিবালয়ে যোগাযোগ করে জেনেছি, তাঁরা এখনো পদত্যাগপত্র হাতে পাননি। স্পিকার যেহেতু দেশে আছেন এবং কার্যত দায়িত্ব পালন করছেন, তাই এ বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন।
    এই পদত্যাগ সরকার বা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, জানতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘কোনো সদস্য যদি মনে করেন, তাঁর ওই পদে থাকা উচিত হবে না, সে ক্ষেত্রে তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন। সোহেল তাজ দীর্ঘদিন থেকে সংসদে অনুপস্থিত আছেন এবং সাংসদ হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন করছিলেন না। সুতরাং, পদত্যাগের সংগত কোনো কারণ তাঁর কাছে থাকতে পারে। তবে তাঁর পদত্যাগ দুঃখজনক। কারণ, আমাদের দেশের রাজনীতিতে তাঁর মতো একজন তরুণ মেধাবী নেতার প্রয়োজন।’
    পদত্যাগের পাশাপাশি সোহেল তাজ এলাকাবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠিও লিখেছেন। এতে তিনি পদত্যাগের সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। তবে লিখেছেন, ‘বাস্তবতা বিচার করে আমি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। কাপাসিয়ার মানুষের সম্মান রক্ষার্থে আমার সামনে এ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।’ মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ব্যাপারে তিনি লিখেছেন, ‘যখন মনে করেছি, আমার সীমিত ক্ষমতায় জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব নয়, তখন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি।’ রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি চিঠিতে লেখেন, ‘সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকলেও আওয়ামী লীগই আমার শেষ ঠিকানা।’
    কয়েক দিন আগে সোহেল তাজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন, তিন বছর আগে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের পরও তাঁর ব্যাংক হিসাবে কেন বেতন-ভাতা যাচ্ছে। তিনি এই অর্থ ফেরত দিতে চান।
    দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। বর্তমান সংসদে তিনি সর্বশেষ যোগ দিয়েছিলেন ২০১০ সালের ১০ জুন সংবিধান সংশোধন বিল পাস হওয়ার দিন। তার পর থেকে ৫৪ কার্যদিবস অনুপস্থিত আছেন তিনি। সব মিলিয়ে বর্তমানে সংসদে ২৮৮ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁর উপস্থিতি ৮৩ দিন।
    তানজিম আহমদ বর্তমান সংসদে সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়া একমাত্র সাংসদ। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, এর আগে অষ্টম সংসদে বিএনপির সাংসদ এবং বর্তমানে বিকল্পধারার নেতা আবদুল মান্নান এবং মাহী বি চৌধুরী তাঁদের সদস্যপদ ত্যাগ করেছিলেন। পঞ্চম সংসদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সদস্যরা একযোগে ১৯৯৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু তখনকার স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী সাংসদদের স্বাক্ষরের সত্যতার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি। অবশ্য সংবিধান অনুযায়ী, টানা ৯০ দিন অনুপস্থিতির কারণে ১৯৯৫ সালের ১৯ জুন তাঁদের সদস্যপদ শূন্য হয়ে যায়।
    আইনি বিতর্ক: সোহেল তাজের পদত্যাগ আইনসিদ্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। কারও কারও মতে, পদত্যাগপত্র স্বহস্তে লেখা হতে হবে। কিন্তু সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র কম্পিউটারে কম্পোজ করা।
    সাংসদদের পদত্যাগ সম্পর্কে সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোনো সংসদ সদস্য স্পিকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন এবং স্পিকার—কিংবা স্পিকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোনো কারণে স্পিকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পিকার যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।’
    অপরদিকে সংবিধানের ইংরেজি পাঠে স্বহস্তে লিখিত পদত্যাগপত্রের কথা বলা আছে। সংবিধানের এজাতীয় বিরোধ সম্পর্কে ১৫৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে, সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে।
    কিন্তু সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে সংবিধানের ইংরেজি পাঠ প্রাধান্য পেয়েছে। ১৭৭ বিধিতে বলা আছে, ‘সংসদের আসন হইতে পদত্যাগ করিতে ইচ্ছুক কোনো সদস্য এই মর্মে স্পিকারকে সম্বোধন করিয়া স্বহস্তে লিখিতভাবে জ্ঞাপন করিবেন যে, তিনি তাঁহার আসন হইতে পদত্যাগ করিতে ইচ্ছুক এবং তিনি পদত্যাগের জন্য কোনো কারণ দর্শাইবেন না।’
    সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, আজ স্পিকার আবদুল হামিদ দপ্তরে আসার পর এ বিষয়ে আলোচনা হবে।




    ---------- Post added at 17:40 ---------- Previous post was at 17:38 ----------


    সোহেল তাজের খোলা চিঠি
    আর সক্রিয় রাজনীতি নয়

    http://www.prothom-alo.com/detail/da...23/news/252505

    সোহেল তাজ পদত্যাগের পর পরই তিনি তাঁর এলাকা ও দেশবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে অবস্থানরত সোহেল তাজের সেই চিঠি নিউজ ওয়ার্ল্ড প্রকাশ করেছে।

    চিঠিটি প্রথম আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য হুবহু তুলে দেওয়া হলো

    অনেক কষ্ট করে গড়ে তোলা সুন্দর একটি জীবন ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। কৈশোর বয়স থেকে নিজে দিনরাত কাজ করে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছি। বাবা-মায়ের দেওয়া শিক্ষা, দেশপ্রেম থেকেই দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে সবকিছু ছেড়ে দেশে ফিরে গিয়েছিলাম। প্রথমে সামাজিকভাবে কাজ শুরু করেছিলাম। আর্সেনিক নিয়ে সচেতনতার কাজও অনেক করেছি। গ্রামে-গঞ্জে ঘুরেছি দিনের পর দিন। বাবা ও মায়ের রাজনৈতিক সহকর্মীদের পরামর্শ এবং কাপাসিয়ার মানুষের অনুরোধেই আমার সক্রিয় রাজনীতিতে আসা। তাঁরা আমাকে বুঝিয়েছিলেন, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আরও ভালো করে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা সম্ভব। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও শরীরে বয়ে চলা বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের রক্তই আমাকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যোগ দিতে এবং দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে। ক্ষমতা, অর্থসম্পদ, খ্যাতি প্রতিপত্তির জন্য আমি রাজনীতিতে যোগ দিইনি। যদি উদ্দেশ্য তা-ই হতো, তাহলে সবকিছু মেনে নিয়ে এখনো এমপি ও মন্ত্রিত্বের পদ আঁঁকড়ে থাকতাম। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাকে বাকি জীবন এই লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে রাখেন।
    নিজের দলীয় ও তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সৃষ্টি করা শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ২০০১ সালের নির্বাচনে কাপাসিয়ার মানুষের ভালোবাসায় প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলাম। দুর্ভাগ্য, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে ক্ষমতায় আসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। আমার কাপাসিয়ার মানুষের ওপর বিএনপি-জামায়াত জোটের চলতে থাকে একের পর এক হামলা, মামলা ও নির্যাতন। প্রতিবাদে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলি। বিএনপি-জামায়াতের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন আমার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী যুবলীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন সরকার। পুলিশ নির্মমভাবে হত্যা করেছে জামাল ফকিরকে। এসবের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ অনশন করতে গিয়ে বারবার পুলিশের নির্মম হামলার শিকার হয়েছি। বস্তুত বিএনপি-জামায়াতের পাঁচটি বছর হামলা, মামলা ঠেকাতে আমাকে বেশির ভাগ সময় রাজপথ ও আদালত প্রাঙ্গণে সময় কাটাতে হয়েছে। কোনো ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজেকে জড়াইনি। পৈতৃক সম্পত্তি থেকে যা আয় হতো, তাই দিয়েই চলত আমার রাজনীতি। এমনকি পৈতৃক সম্পত্তিও বিক্রি করেছি রাজনীতির জন্য। খুব সাদামাটা সাধারণ জীবনযাপন করেছি। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের কর্মকাণ্ড আমাকে হতাশ করলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের যুগোপযোগী নির্বাচনী ইশতেহার আমাকে রাজনীতিতে আরও বেশি উত্সাহিত করে। যে ইশতেহারটি ছিল প্রগতিশীল ও দিনবদলের একটি ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। আশাবাদী হই, একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির। যে সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণ পাবে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার। যুদ্ধাপরাধী, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, জাতীয় চার নেতা, উদীচী ও একুশে আগস্ট হত্যাকাণ্ড, সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া ও অহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ড এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। বাংলাদেশ হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা—সব মিলিয়ে একটি সুন্দর সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আর তাই যে মন্ত্রণালয় কেউ নিতে চায়নি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাসে সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। এই দায়িত্বটি ছিল শুধু মন্ত্রিত্ব নয়, একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব অপরিসীম। আর সুশাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্বের অনেকটাই ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। আমার সব সময়ই চেষ্টা ছিল পুলিশ বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে জনগণের বন্ধু করে তোলা। মন্ত্রিত্বের শেষ দিন পর্যন্ত আমার সেই চেষ্টা অব্যাহত ছিল। কতটুকু পেরেছি বা কেন পারিনি, সে কথায় না গিয়ে শুধু এইটুকু বলতে চাই, আমি আমার মায়ের কাছ থেকে শিখেছি, সব সময় অনিয়ম ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। সেটা যে-ই করুক না কেন। যতটুকু সম্ভব আমি আমার সীমিত ক্ষমতার মধ্যে চেষ্টাও করেছিলাম। সেই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু করতে সহযোগিতা করেছিলাম।
    কথার পেছনে অনেক কথা থাকে। অনেক লুকায়িত সত্য থাকে। যা দেশ, জনগণ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে জনসম্মুখে বলা উচিত না। আর তা সম্ভবও নয়। শুধু এইটুকু বলি, আমি ‘সংগত’ কারণেই এমপি ও মন্ত্রিত্বের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। যে কয়দিন দায়িত্বে ছিলাম, মন্ত্রিত্বের শপথ থেকে বিচ্যুত হইনি। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। দুর্নীতি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সোচ্চার ছিলাম। যখন মনে করেছি, আমার সীমিত ক্ষমতায় জনগণের প্রতি দেওয়া কমিটমেন্ট আর রক্ষা করা সম্ভব নয়, তখন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। কারণ পদ বা ক্ষমতার লোভে আমি রাজনীতিতে আসিনি। যদি তা-ই হতো তাহলে মন্ত্রিত্বের লোভনীয় সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে প্রবাসে চাকরির জীবন বেছে নিতাম না। অর্থসম্পদ বা ক্ষমতার বিন্দুমাত্র মোহ আমার নেই।
    আমার কাপাসিয়াবাসীর উদ্দেশে বলতে চাই, সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নিতে আমার অনেক চিন্তাভাবনা করতে হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা, ভালোবাসা, স্নেহ—আমার জন্য এলাকার মানুষের ত্যাগ স্বীকার, আবেগ এই সবকিছু চিন্তা করার পরও বাস্তবতা বিচার করে আমি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। কাপাসিয়ার মানুষের সম্মান রক্ষার্থে আমার সামনে এ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। কারণ কাপাসিয়ার মানুষের মর্যাদা ও সম্মান আমার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি জানি, আমার এই সিদ্ধান্তে আপনারা ক্ষুব্ধ ও অভিমানী হবেন, প্রতিবাদ করবেন। কারণ যে ভালোবাসা ও সম্মান আপনারা আমাকে দিয়েছেন, এই সম্মানের ওপর কোনো কালিমা পড়ুক, তা আমি চাই না। সংগত কারণেই সবকিছু খুলে বলতে পারছি না। এই কাপাসিয়ার মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার নাড়ির সম্পর্ক। এই কাপাসিয়ার মাঠে-ঘাটেই বেড়ে উঠেছেন আমার বাবা বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ। সেই মাটির গন্ধ আমার গায়েও। তাঁর আদর্শ নিয়েই আমার পথচলা। কাপাসিয়ার মানুষের জন্য অনেক কিছু করার স্বপ্ন নিয়েই আমি প্রবাস-জীবনের ইতি টেনেছিলাম। আপনাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ভালোবাসা ও দোয়া পেয়েছি। এর প্রতিদান হয়তো ততটুকু দিতে পারিনি। তবে সেই চেষ্টা আমার সব সময় ছিল। আমি এইটুকু বলতে চাই, সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করলেও আপনাদের পাশে থাকব সব সময়। হয়তো অন্য কোনোভাবে, অন্য কোনো পথে। এই প্রতিজ্ঞা করছি।
    সক্রিয় রাজনীতিতে পুনরায় আসার সম্ভাবনা না থাকলেও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমার বাবা তাজউদ্দীন আহমদের আদর্শে গড়া আওয়ামী লীগই আমার শেষ ঠিকানা। কারণ এই দলটির সঙ্গে আমার বাবার রক্ত মিশে আছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে তিনি জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়েছেন। কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করেননি। জীবন দিয়েও তা প্রমাণ করে গেছেন।
    কাপাসিয়ায় আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী যাঁরা আমার জন্য ত্যাগ স্বীকার, জেল-জুলুম ও অত্যাচার সহ্য করেছেন, তাঁদের উদ্দেশে বলব, আমি সব সময় যেটা আপনাদের বলে এসেছি, তা হচ্ছে ব্যক্তি-স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি পরিহার করতে হবে। ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনের মতো নীতি আদর্শের রাজনীতি করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী কাপাসিয়ার নেতৃত্ব যেন ভালো মানুষের দ্বারা পরিচালিত হয়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনাদের ওপর। কাপাসিয়ার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আপনারা সেই পথে এগিয়ে যান। আপনাদের সবার মতো আমিও তাকিয়ে আছি ভবিষ্যতের দিকে। হয়তো একদিন সুস্থ একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ হবে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী একটি দেশ।

    এই প্রত্যাশায়

    তানজিম আহমদ (সোহেল তাজ)
    তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০১২

    ---------- Post added at 18:03 ---------- Previous post was at 17:40 ----------

    ‘সবকিছু খুলে বলতে পারছি না’ -সোহেল তাজ
    http://bdnews24.com/bangla/details.p...=192093&hb=top

    ---------- Post added at 18:05 ---------- Previous post was at 18:03 ----------

    স্পিকারের কার্যালয়ে পাঠানো সোহেল তাজের পদত্যগপত্র
    bit.ly




    ---------- Post added at 18:13 ---------- Previous post was at 18:05 ----------

    http://www.samakal.com.bd/details.ph...65&pub_no=1034
    ঝুলে থাকতে পারে সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র!
    পদ পিছু ছাড়ছে না




    সজল জাহিদ
    'পদ' পিছু ছাড়ছে না সোহেল তাজের। আগে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে পদত্যাগপত্র পেশ করেছিলেন এ সাংসদ। সে পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কি-না তা এখনও অস্পষ্ট। সাংসদ সোহেল তাজ এবার সংসদের সদস্যপদও ছাড়তে চান। যথারীতি এবারও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এবারও তার পদত্যাগ করা সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। তার পদত্যাগপত্র ঝুলে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। তাই অনেকে বলছেন, পদ পিছু ছাড়ছে না সোহেল তাজের।
    শুভাকাঙ্ক্ষীদের শত আপত্তির পরও সংসদ সদস্যপদ ছাড়তে গত সোমবার পদত্যাগপত্র জমা দেন সোহেল তাজ। তবে আলোচিত এ প্রতিমন্ত্রী-সাংসদের পদত্যাগপত্র এখনই গ্রহণ না করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সংসদ সচিবালয় থেকে। বরং পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুলিয়ে রাখা হবে বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন সূত্র। স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটও এ বিষয়ে খুব সাবধানী অবস্থান নিয়েছেন। কাগজপত্র
    দেখার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার পর আগামী অধিবেশনে সংসদকে এ বিষয়ে অবহিত করবেন বলে জানান স্পিকার।
    জানা গেছে, সোমবার জাতীয় সংসদে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে দেশ-বিদেশে আওয়ামী লীগ ও সরকার সংশ্লিষ্ট শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন তাজ। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করার পাশাপাশি নিজ এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাদের প্রত্যেকেই তাকে এখনই সংসদ সদস্যের পদ থেকে সরে না দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। তবে তাদের কারও কথাই শোনেননি সোহেল তাজ।
    সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় সরকারি সফরে খুলনা অবস্থান করছিলেন স্পিকার আবদুল হামিদ। সোমবার অনেক রাতে ঢাকায় ফেরেন তিনি। সকালে জাতীয় সংসদে তার বাসভবনে সমকালের সঙ্গে আলাপকালে তাজের পদত্যাগ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকার করেন স্পিকার। পরে এক পর্যায়ে বলেন, আগামী বাজেট অধিবেশনে এ বিষয়ে সংসদকে অবহিত করবেন। তখন একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ডেকে তার সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
    সংবিধানের যে ধারায় সোহেল তাজ পদত্যাগ করেছেন তাতে স্পিকারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ ছাড়া বিকল্প কিছু চিন্তা করার সুযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, পদত্যাগপত্র হাতে পাননি তিনি। তাছাড়া যত প্রশ্নই করা হোক না কেন, এখনই এ বিষয়ে তিনি কিছু বলবেন না।
    এদিকে সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বিকেলেই সোহেল তাজের পদত্যাগপত্রের ফাইল তার সামনে উপস্থাপন করা হয়। এ সময় তিনি সংসদের কর্মকর্তাদের পদত্যাগপত্রটি যাচাই-বাছাই করে দেখার পরামর্শ দেন। সূত্র জানায়, সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে তাকে ৯০ কার্যদিবসের ছুটি দেওয়া হতে পারে।
    এর আগে সোহেল তাজ তার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং দফতরবিহীন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গতকাল পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে নাম ছিল তার। এদিকে সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলেও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ক্যাবিনেটে থাকার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই বলেও জানিয়েছে অপর এক সূত্র। এ বিষয়ে সংসদের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিমন্ত্রী পদের সঙ্গে সংসদ সদস্য থাকা-না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। সংসদ সদস্য না থাকলেও তাকে টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ক্যাবিনেটে রাখা যায়।
    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানকারী সোহেল তাজ পদত্যাগের বিষয়ে সেখানে তার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানা গেছে। নিউইয়র্কে সোহেল তাজের ঘনিষ্ঠ এক সাংবাদিক সমকালকে জানান, বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে গত ক'দিন ভীষণ বিচলিত ছিলেন সোহেল তাজ। এর মধ্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের ৭০ লাখ টাকাসহ ধরা পড়ার ঘটনা মেনে নিতে পারেননি তিনি। এর পরপরই সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন তিনি।
    এদিকে সংসদ সচিবালয়ের অন্য একটি সূত্র বলছে, যদি সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রে বিলম্ব হয় তাহলে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনটি শূন্য ঘোষণা করতেও বিলম্ব হবে। সেক্ষেত্রে ওই আসনে উপনির্বাচনও যাবে পিছিয়ে।
    Last edited by furiousTaher; April 25th, 2012 at 18:42.

  2. #2
    Member
    Join Date
    Sep 2009
    Location
    Tangail
    Posts
    385

    Default

    bhalo loker dam ney BD er rajnitite.

Tags for this Thread

Posting Permissions

  • You may not post new threads
  • You may not post replies
  • You may not post attachments
  • You may not edit your posts
  •  
Page generated in 0.33939 seconds with 14 queries.