ঢাকা, ফেব্রয়ারি ০২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- http://ns.bdnews24.com/bangla/detail...id=184822&hb=2

দেশের অর্থনীতি নিয়ে অনেক অর্থনীতিবিদের শঙ্কার মধ্যে গত জানুয়ারিতে রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স এসেছে, যা রিজার্ভও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে প্রবাসীরা ১২১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের জানুয়ারি মাসের চেয়ে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি।

জানুয়ারি মাসের রেমিটেন্স যোগ হয়ে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ কোটি ২৪ লাখ ডলার। সপ্তাহ দুয়েক আগেও তা ৯০০ কোটি ডলারের নিচে ছিল।

এর আগে এক মাসে কখনই এ পরিমাণ রেমিটেন্স দেশে আসেনি। গত ডিসেম্বরে আসা ১১০ কোটি ১৮ লাখ ডলার রেমিটেন্স ছিল এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের গবেষক জায়েদ বখত বলেন, যে মুহূর্তে দেশের অর্থনীতিতে সঙ্কট চলছে, তখন রেমিটেন্স প্রবাহের এ ইতিবাচক ধারা দেশের অর্থনীতির জন্য অবশ্যই ভালো খবর।

এ ধারা ব্যালান্স অব পেমেন্টের (লেনদেনের ভারসাম্যে) বর্তমান সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে বলে মনে করেন তিনি।

পরপর দুই মাসে রেমিটেন্সের রেকর্ড হওয়ায় বিষয়ে জায়েদ বখতের যুক্তি, টাকার বিপরীতে ডলারের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসীরা এখন দেশে তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন।

অনেক প্রবাসী হয়ত বিদেশে অর্থ জমিয়েছিলেন। এখন ডলারের দাম খুব বেশি বাড়ায় তারা তাদের জমানো অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। এ কারণে রেমিটেন্স বেশি আসতে পারে, বলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৩০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে।

তবে বিদেশি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত ডলার বিক্রি করেছে।

গত এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ৭২৮ কোটি ৪১ লাখ ডলার রেমিটেন্স দেশে এসেছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬৫২ কোটি ১০ লাখ ডলার।

শতকরা হিসেবে এ সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১০১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার রেমিটেন্স দেশে আসে। অগাস্ট মাসে আসে ১১০ কোটি ১৭ লাখ ডলার।

সেপ্টেম্বরে আসে ৮৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। অক্টোবর ও নভেম্বরে এসেছে যথাক্রমে ১০৩ কোটি ৯৪ লাখ ও ৯০ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

সাধারণত দুই ঈদের আগে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে থাকে। কিন্তু সে ধরনের কোনো উৎসব না থাকার পরও ডিসেম্বরে বেশি রেমিটেন্স এসেছে।

এদিকে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত সোমবার ছিল ৯৪২ কোটি ২৪ (৯ দশমিক ৪২ বিলিয়ন) ডলার। মাস খানেক আগেও এই রিজার্ভ ৯০০ কোটি ডলারের নেমে এসেছিল।

তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে রাষ্ট্রায়াত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের (কৃষি ও বেসিক ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ১৩ লাখ ডলার।

৩০ বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৮৭ কোটি ২৮ লাখ ডলার। আর নয়টি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৩৫ লাখ ডলার।


why is still the exchange rate is so high :s