1st Leg
বৈরুতের স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় মুখোমুখি হবে দুই দল।
Lebanon vs Bangladesh
Camille Chamoun Sports City Stadium, Beirut
20:00 BST
Officials
Referee: Kadhum AUDA (IRQ)
Assistant Referee 1: Luay SUBHI (IRQ)
Assistant Referee 2: Sabban AHMED (IRQ)
Fourth official: Ali ADDAY (IRQ)
Detail Report
ইতিহাসকে সামনে দেখছে সবাই
কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কির কথা গভীর মনোযোগে শুনছেন বিপ্লব-এমিলি-মিঠুনরা। কাল বৈরুতের মিউনিসিপাল স্টেডিয়ামে অনুশীলনে
লেবাননের চেয়ে র¤্যাঙ্কিংয়ে চৌদ্দ ধাপ এগিয়ে। সাম্প্রতিক ফলাফলেও লেবাননের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। লেবানন তাদের সর্বশেষ তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচে হেরেছে, যদিও প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী—সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কুয়েত। আর বাংলাদেশ তাদের তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের একটিতে জিতেছে, একটি ড্রয়ের পাশে হেরেছে বাকি ম্যাচটি। এত কিছুর পরও সতর্ক বাংলাদেশ—ইতিহাসের বাঁকে দাঁড়ানো দলটি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে জিতলেই ঢুকে যাবে এশিয়ার সেরা বিশে। এর আগে কখনোই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেরা বিশে খেলার সুযোগ পায়নি লাল-সবুজের দেশ।
নতুন কোচ, স্বল্প প্রস্তুতি—তবু জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আজ লেবাননের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে নামবেন আত্মপ্রত্যয়ী বিপ্লব-এমিলিরা। বৈরুতের স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় মুখোমুখি হবে দুই দল। এই ম্যাচে জয় না হোক, অন্তত ড্র করলেও চলবে।
বাংলাদেশের সামনে যে ইতিহাস গড়ার সুবর্ণ সুযোগ, সেটা ভালোই বুঝতে পারছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্য। কাল বৈরুত থেকে জানালেন, ‘এখানে গ্রীষ্মকাল চলছে। আবহাওয়া ভালো। কন্ডিশন নিয়ে ভাবছি না। আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক হচ্ছে, প্রতিটি খেলোয়াড়ই ম্যাচ নিয়ে ভাবছে এবং সবাই জানে যে ইতিহাস থেকে এক ধাপ দূরে আমরা। আমি মনে করি, দলের ও দেশের জন্য এটা একটা দারুণ ব্যাপার।’
সুপার কাপ স্থগিত করে জাতীয় দলকে অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে কতটুকুই বা লাভ হয়েছে! পরশু বৈরুতের হোটেলে উঠে ঘণ্টা চারেকের বিশ্রাম শেষে ছেলেদের নিয়ে অনুশীলনে নেমে পড়েন কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি। বৈরুত মিউনিসিপালিটি স্টেডিয়ামে অনুশীলন হয়েছে কালও।
নিজেদের মাঠে লেবাননের ফলাফল খুব ভালো নয়। সর্বশেষ আট ম্যাচের একটিও তারা জেতেনি। মাত্র দুটি ম্যাচ ড্র করেছে। লেবানন দেশের মাটিতে সর্বশেষ জিতেছিল ২০০৮ সালে। মালদ্বীপকে ওই ম্যাচে হারিয়েছিল ৪-১ গোলে। তবে এসব পরিসংখ্যানে চোখ না রেখে নিজেদের কাজটাই করতে হবে বাংলাদেশকে।
লেবাননের কোচ এমিল রুস্তম বাংলাদেশকে যথেষ্ট সমীহের চোখে দেখছেন, ‘এই ম্যাচটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এরই মধ্যে তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি। আমাদের খেলোয়াড়েরা কে কেমন খেলে, সেটা বুঝতে সাহায্য করেছে ম্যাচগুলো। আমাদের জাতীয় দল গত দুই বছর কোনো ম্যাচ খেলতে পারেনি। তবে আমরা হারার আগে হারব না। ঢাকায় যাওয়ার আগে এই ম্যাচ জিতে আমরা মানসিকভাবে এগিয়ে রাখতে চাই নিজেদের।’
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ: ফিরে দেখা অতীত
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে ওঠার লক্ষ্যে আজ বৈরুতে লেবাননের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। প্রাক-বাছাইয়ে পাকিস্তানকে উভয় লেগে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ২৮ জুলাই ঢাকায় এই রাউন্ডের হোম ম্যাচে বাংলাদেশ আবার মুখোমুখি হবে লেবাননের।
বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা বাংলাদেশের জন্য মানের বিচারে অনেক দূরের ব্যাপার হলেও একটি ব্যাপারে লেবাননের বিপক্ষে লড়াই বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য অনেক গুরুত্বের বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে। লেবাননকে পেছনে ফেলে বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হতে পারলেই বাংলাদেশ জায়গা করে নেবে এশিয়ার সেরা ২০ দলের মধ্যে। ফুটবল-সংশ্লিষ্টরা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লেবাননের বিপক্ষে ম্যাচ দুটিকে তাই দেখছেন ইতিহাসের এক যুগসন্ধি-ক্ষণ হিসেবেই।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নতুন কিছু নয়। ১৯৮৫ সালেই ’৮৬-র মেক্সিকো বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে প্রথমবারের মতো খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল। এর পরের ২৫ বছরে আরও ছয়বার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মোট ৩৬টি ম্যাচে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে সাতটি, ড্র করেছে তিনটি ম্যাচে ও পরাজিত হয়েছে বাকি ২৬টি ম্যাচে। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ইরান, চীন, জাপান, আমিরাত, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তাজিকিস্তান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, তাইওয়ান ও মঙ্গোলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জিতেছে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ২০০২ সালে ৩-০ ব্যবধানে। সৌদি আরবের দাম্মামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই খেলাটি। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় পরাজয় ১৯৯৩ সালে টোকিওতে জাপানের বিপক্ষে ৮-০ গোলে। বাংলাদেশের সাতটি বিজয় এসেছে ১৯৮৫ সালে ঢাকায় ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে যথাক্রমে ২-১ ও ১-০ গোলে। ১৯৮৯ সালে ঢাকায় থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলে, ১৯৯৩ সালে ইয়োকোহামায় ও দুবাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যথাক্রমে ১-০ ও ৩-০ ব্যবধানে। ১৯৯৭ সালে কুয়ালালামপুরে তাইওয়ানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে, ২০০২ সালে দাম্মামে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে।
শক্তিশালী ইরানের বিপক্ষে ১৯৮৯ সালে তেহরান ও ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুটি ম্যাচে ন্যূনতম ব্যবধানে পরাজয় মেনেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে তেহরানে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে আচমকা গোল খেয়ে হেরেছিল বাংলাদেশ। একই বছর ঢাকায় থাইল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারানোর ম্যাচটিকে অনেকেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে দেখে থাকেন। সেই ম্যাচে সাব্বির প্রায় মধ্যমাঠ থেকে একটি বল নিয়ে প্রায় একক প্রচেষ্টায় পাঁচজন থাই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোল করেছিলেন। অপর দুটি গোল এসেছিল ওয়াসিম ইকবাল ও সত্যজিত্ দাস রুপুর পা থেকে।
১৯৯৩ সালে টোকিওতে জাপানের কাছে প্রথম লেগে ৮-০ গোলে হারলেও দ্বিতীয় লেগে দুবাইয়ে এশিয়ার শীর্ষ এই দলটির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে ৪-১ গোলে হারে বাংলাদেশ। প্রথমে জাপান এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে এনেছিল রুমির গোল থেকে। সেই বছরের বাছাইপর্বে কোবেতে শেষ মুহূর্তের গোলে আমিরাতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। দুবাইয়ে পরের ম্যাচে অবশ্য ৭-০ গোলে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছিল।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষদের মধ্যে জাপান, ইরান ও সৌদি আরব বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে একাধিকবার। চীন ও আরব আমিরাত চূড়ান্ত পর্বে খেলেছে একবার করে।
Live Streaming

Originally Posted by
abir
---------- Post added at 20:26 ---------- Previous post was at 19:15 ----------
25 minutes.
Come on Bangladesh. Wake up.