অ্যাংকর ভাট মন্দির


কয়েক দশক ধরে সংস্কার কাজের পর কম্বোডিয়ার অন্যতম প্রাচীন মন্দির অ্যাংকর ভাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এই সংস্কার কাজকে বিশ্বের জটিল কাজ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
অ্যাংকর ভাট মন্দিরটির সংস্কারের কাজ শুরু হয় ষাটের দশকে। তবে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের সময় এই কাজ বন্ধ থাকে। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে আবার কাজ শুরু হয়।
এগারো শতকে অ্যাংকর ভাট কমপ্লেক্সে তিন সারি টাওয়ার ছিল। এর আকর্ষণে বছরে প্রায় বিশ লাখ পর্যটক অ্যাংকর ভাটে আসতেন।
সংস্কার শেষে সম্প্রতি অ্যাংকর ভাট মন্দিরের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কম্বোডিয়ার রাজা নরোদম সিহামনি ও ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁইঙ্ক ফিলো উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ফিলো বলেন, বাফুয়নের কাজটি সত্যিই অন্য রকম হয়েছে। রাজা নরোদম এই কাজের প্রকল্পে অর্থ সহায়তার জন্য ফ্রান্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ফ্রান্স এই প্রকল্পে এক কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা দেয়।
বিবিসির সাংবাদিক গাই ডে লাওনে নমপেন থেকে জানান, মন্দিরের সবচেয়েআকর্ষণীয়ভাস্কর্যবাফুয়ন ভাস্কর্যেরও সংস্কার করা হয়। এই ভাস্কর্যের তিন লাখ বেলেপাথরের ব্লক খুলে নিয়ে আবারও যথাস্থানে বসানো হয়েছে।
পঞ্চাশের দশকে বাফুয়ন ভাস্কর্য ধসে পড়ার উপক্রম হয়। ফ্রান্সের প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল অ্যাংকর ভাট পরিদর্শন করে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে একমাত্র পুনর্নির্মাণ করেই এটি রক্ষা করা যেতে পারে। তাঁরা ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলেন। পাথরের ব্লকগুলো নামিয়ে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করেন। হুবহু পুনর্নির্মাণের জন্য মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে এটা করা হয়। এ কারণেই টাওয়ারটি তাঁরা পুনরায় নির্মাণ করতে সক্ষম হন। খেমাররুজদের শাসনামলে পুনর্নির্মাণকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৯৫ সালে এর পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হয়।
পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্যাসকেল রোয়েরে বলেন, কাজ শুরুর প্রথম বছরগুলো ছিল সবচেয়ে কঠিন সময়। তিন লাখ বেলেপাথর এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যে পাথরটি আগে যে স্থানে ছিল এখনো সে স্থানেই রয়েছে। তাই একই ধরনের দুটি পাথর কখনোই পাশাপাশি বসেনি।


Source