হেল
আমি বাঙ্গালি
আমি বাংলাই কথা কই
বাংলা গেমার
Testing Bangla from Saleh Bhai's Facebook link:
লজ্জাবনত শহীদ মিনার কি নীরবে কাঁদে?
[এই লেখাটি কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষের বাতিলকৃত একটি লেখা। প্রতি মঙ্গলবার নির্ধারিত তরিখ অনুযায়ী কালের কণ্ঠতে একটি সিঙ্গেল কলাম লিখবার দায়িত্ব আমার। গত ২৩ ফেব্র“য়ারি এই লেখাটি করে আমি আমার সেকশন চিপকে দিলে তিনি লেখাটি ছেড়ে দেন এবং অফিস থাকাকালে লেখাটি পেস্টিং হওয়া অবস্থায় দেখে আমি বাড়ি ফিরি। কিন্তু ২৪ তারিখের কালের কণ্ঠে লেখাটি না-দেখে আমি আবারও টের পেতে বাধ্য হই, সামরিক ক্যু ঘটবার মতো করে পত্রিকা অফিসগুলোতেও ক্যু ঘটে যায় মাঝেমধ্যেই। ২৪ তারিখে একটি পদত্যাগপত্র লিখেও তা জমা না দিয়ে হাতে করে বাসায় নিয়ে আসি। জীবিকা আর জীবনের এই দ্বন্দ্ব সংঘাত প্রতিদিন একটু করে আড়াল হয়ে যায়। কিন্তু আমার প্রতিরোধ জারি থাকে, যতোটা পারি, ততোটা... তাই ফেইসবুক বন্ধুদের কাছে এই কথাটুকু না বলে পারা যায় না। চাকরি হারাবার ভয় থাকলেও না...]
ততক্ষণে আমাদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি ঘিরে পরিকল্পিতভাবে লাগানো পলাশের সারি থেকে ১টি বাদে সবগুলো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তা, মঞ্চ তৈরী, পরিচ্ছন্নতা আর টিভিতে দৃশ্যধারণের সুবিধা-প্রাপ্তির অজুহাতে। একুশের চেতনার সাথে একটি প্রতিক হিসেবে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা রক্তরাঙা পলাশ কেটে ফেলে মলিন করে দেয়া হয়েছে আÍদান এবং বিদ্রোহের অঙ্গীকারের চেতনার স্মারক শহীদ মিনারটিকে। ততক্ষণে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা হয়তো জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবার আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলেছে। সেই শহীদ মিনারে, বিদ্রোহ আর আÍত্যাগের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে ফুল দিতে গিয়ে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের লেজুড় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীদের উত্যক্ততার শিকার হচ্ছিলো যে মেয়েটি, পুরান ঢাকার সেই কলেজ ছাত্রীর অভিভাবকরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলো। তাই ফেরার পথে উপাচার্যের বাসার সামনে তাঁদেরকে আটকে ফেলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা মহাজোট সরকারের বিশ্ববিদ্যালয়-ক্ষমতাকাঠামোর অংশ, লেজুড় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ‘সোনার ছেলেরা’। মেয়েটিকে অকথ্যভাষায় গালাগাল দিতে থাকে। নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে ওই ছাত্রী ও তাঁর অভিভাবকদের শাসায়। এক পর্যায়ে তাদের একজন ওই মেয়েটির ওড়না ধরে টান দিলে মেয়েটি আর চুপ করে থাকেনি। ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’-- এই চেতনাই তাঁকে প্রতিবাদী করে তুলেছিলো কি?
বোধকরি তাই। মেয়েটি তাই ওড়না টেনে নেয়া ছেলেটির গালে থাপ্পড় মেরে দেয়। এরপর ছাত্রলীগ কর্মী ও মেয়েটির সঙ্গে থাকা অভিভাবকরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ছাত্রলীগের কর্মীরা তাঁদের আটকে রেখে হল থেকে হকিস্টিক ও লাঠি নিয়ে এসে ওই ছাত্রী ও তাঁর অভিভাবকদের পিটিয়ে জখম করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী মেয়েটিকে আর তাঁর অভিবাবকদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি, কোনো প্রতিবাদ করেনি। ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতে হকিস্টিক ও লাঠি থাকায় কেউ বাধা দিতে সাহস দেখায়নি। গোটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতজন শিক্ষার্থী ঘটনাটি সরাসরি দেখেছে জানি না, তবে জানি, একজন শিক্ষার্থীও ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ -- এই চেতনায় জ্বলে ওঠেনি। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঐ ৫২ সালে ১৪৪ ধারা ভেঙে চেতনাদীপ্ত অঙ্গীকার নিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে পেরেছিলো বুলেটের সামনে, একই সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ দুস্কৃতিকারীরা একটি মেয়ের ওড়না টেনে নেয়া হলে কোনো প্রতিবাদ হয় না, সবাই হা করে দেখে, আÍসমর্পণ করে লাঠি আর হকিস্টিক-এর কাছে। লোকলজ্জায় কারো কাছে অভিযোগ না জানিয়ে তাই মেয়েটি আর তাঁর অভিবাবকরা চলে যেতে বাধ্য হয়।
পুঁজিপ্রেষিত-পুরুষতান্ত্রিক অবদমনের এই যুগে একটি মেয়েকে উত্যক্ত করা, তাঁর ওড়না টেনে নিয়ে পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার প্রয়োগ একটি স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাকে পুরুষতান্ত্রিক-ক্ষমতাকাঠামো সম্ভ্রম নামে ডাকে, তার অনেকটাই যেন লুকানো থাকে ওড়নার নিচেই। তাই ওড়না টেনে নেয়াটা পুরুষতান্ত্রিক-ক্ষমতা প্রদর্শনের একটা মুখ্য উপায়। কিন্তু একুশের দিন, তাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গায় এমন ঘটনা ঘটলে আমাদের কিন্তু বুঝে নিতে নয়, যে ৭৩এর অধ্যাদেশ দিয়ে রাষ্ট্র থেকে স্বায়ত্তশাসন নিয়ে, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত থেকে স্বাধীন জ্ঞানচর্চা করবার যে কথা ছিলো সেই কথা আমরা রাখতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো রাষ্টীয় ক্ষমতায় থাকা সরকারের নিয়োগকৃত ভিসি, তাঁর অধস্তন প্রশাসন এবং তাঁর ছাত্রসংগঠনের কর্তৃত্ব চর্চারই প্রতিষ্ঠান হয়ে আছে। কোনো সরকারের সময়ই এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আর তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখানে জিম্মি। তাদের ‘মাথা নত না করবার’ প্রেরণা ঐ ক্ষমতাবৃত্তে মুখ লুকিয়ে ডুকরে কাঁদতে থাকে। আর একুশের চেতনাদীপ্ত একটি মেয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে এসে অনেকখানি অশ্রদ্ধা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
শহীদ মিনারের ছেটে ফেলা গাছের মলিনতা আর মেয়েটির ‘মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’ অধিকারহীনতা একাকার হয়ে যায় এই একুশ শতকের একুশের দিনে। আর আমরা সংবাদকর্মীরা খবরের কাগজে এটা লিখতে অভ্যস্ত হয়ে যাই যে, ‘শহীদ মিনারে থেকে ফেরার পথে এক ছাত্রীকে পেটালো ছাত্রলীগ কর্মীরা’। আর আপনারা যাঁরা পাঠক, তারাও পড়তে অভ্যস্ত হয়ে যান। বাঘাইছড়িতে এই একুশের মাসেই, আÍনিয়ন্ত্রণের অধিকার-প্রতিষ্ঠার জন্য আÍাহুতি দেবার মাসেই পাহাড়িদের উপর চলছে তীব্র নিপীড়ন। আমরা অভ্যস্তভাবে লিখে যাচ্ছি সংবাদপত্রে, আপনারা পড়ে যাচ্ছেন। আমাদের এই অভ্যস্ততার বদল ঘটবে কবে?
আমাদের এই অভ্যস্ততা দেখে লজ্জাবনত শহীদ মিনার কি নীরবে কাঁদে না?
যাহাই করুক সুন্দর হইইয়াসে লেখাগুলা।
গুগলে বাংলা লেখা যায় . এটা আপনারা জানতেন ?
PS3-PC-PSP-Android FTW !!
bah.
valoi to code.